রাজবাড়ীতে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশ করেনি কেউ
রাজবাড়ীতে ২০২৬ সালের এইচএসসি, আলিম ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি পাংশা ও গোয়ালন্দ উপজেলায় অবস্থিত। উভয় প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত নয় (নন-এমপিও)। জেলা শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের ফলাফলসংক্রান্ত সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, জেলায় এই তিন পরীক্ষায় মোট ৮ হাজার ৫৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ৫১৯ জন। জেলায় সামগ্রিক পাসের হার ৪১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২ জন।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি হলো পাংশা উপজেলার কাচারীপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং গোয়ালন্দ উপজেলার ফকির আব্দুল জব্বার কলেজ। এর মধ্যে কাচারীপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনজন এবং ফকির আব্দুল জব্বার কলেজ থেকে চারজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
অন্যদিকে, জেলায় শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান রয়েছে একটি। রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ভাকলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিও নন-এমপিও।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, এইচএসসি পরীক্ষায় রাজবাড়ী সদরে ২ হাজার ৮০২ জনের মধ্যে ১ হাজার ২৭১ জন, বালিয়াকান্দিতে ১ হাজার ২০৪ জনের মধ্যে ৪৯৬ জন, পাংশায় ১ হাজার ৮২৩ জনের মধ্যে ৭৭৭ জন, গোয়ালন্দে ৬৬২ জনের মধ্যে ২১৪ জন এবং কালুখালীতে ৩৯৬ জনের মধ্যে ১১০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
আলিম পরীক্ষায় জেলায় ৫৩৬ জনের মধ্যে ১৯২ জন এবং এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৪ জনের মধ্যে ৫১৯ জন পাস করেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনটি পরীক্ষায় মোট ৭২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠদান করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে হবে এবং অভিভাবকদেরও সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের শ্রেণি কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীতে জেলার ফলাফলের আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
