ভাড়া দেওয়া বাড়িতে ডিবির অভিযানের ঘটনায় অতিরিক্ত ডিআইজি জহির সাময়িক বরখাস্ত
রাজধানীর পুলিশ হাউজিং আবাসিক এলাকায় নিজের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানের ঘটনায় পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে (পিএসটিএস) সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপনে সই করেন। আদেশ অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর থেকে তাঁর সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ওই বাড়িতে ডিবির অভিযান এবং এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ফলে জনমনে পুলিশের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনসম্মুখে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরের কর্মকাণ্ডকে শিষ্টাচারবহির্ভূত, অকর্মকর্তাসুলভ এবং বিভাগীয় নিয়ম-শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন বিধি অনুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা পাবেন।
যে ঘটনায় আলোচনায় আসেন অতিরিক্ত ডিআইজি
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবির উত্তরা বিভাগ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো ওই অভিযানে বাড়িটিতে রাতভর ডিজে পার্টি, মাদক সেবন ও মাদকের কারবার চলছিল বলে জানিয়েছিল ডিবি।
ডিবির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, মদ এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। প্রাথমিক ব্রিফিংয়ে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষসহ মোট ৮৪ জনকে আটকের কথা জানানো হয়েছিল। তবে ৩১ অক্টোবরের সাময়িক বরখাস্তের খবরসহ কয়েকটি পরবর্তী প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা ৮৫ জন উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্যে অমিল রয়েছে।
ডিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছিল, বাড়িটি অনলাইন ভাড়ার প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। একজন হোস্ট ও একজন কো-হোস্টের মাধ্যমে বাড়িটি পরিচালিত হচ্ছিল। অভিযানের পর কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকেও আটক করা হয় বলে ডিবি জানিয়েছিল।
বাড়ির মালিক হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন জহির
অভিযানের পর ২০ অক্টোবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল জহির বলেছিলেন, বাড়িটি এয়ারবিএনবি ও অন্যান্য ভ্রমণবিষয়ক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভাড়া দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। জন্মদিন ও গায়ে হলুদের মতো পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য বাড়ির ছোট উঠান ভাড়া দেওয়া হতো।
ভাড়া দেওয়া স্থানে বাড়ির মালিকের অগোচরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে তার দায় মালিকের ওপর বর্তানো উচিত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভাড়াটিয়া আড়ালে কোনো অপরাধ করলে বাড়ির মালিক সব সময় তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।
আগে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত, এবার সাময়িক বরখাস্ত
ডিবির অভিযানের দিনই অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরের রিঅ্যার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখা থেকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা অফিস আদেশে তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।
এর পাঁচ দিন পর, ২৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর করে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে তাঁকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে সংযুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
