যুক্তরাষ্ট্রে বসে ওয়ারীতে ‘কুশ’ ল্যাব পরিচালনা, দেশে ফিরে গ্রেপ্তার তৌসিফ

৩ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ওয়ারীতে বাসার ভেতরে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করে অপ্রচলিত মাদক ‘কুশ’ চাষের অভিযোগে তৌসিফ হাসান (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তৌসিফ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। দেশটিতে অবস্থান করেও দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকায় স্থাপিত ল্যাবের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর ওয়ারী থানার র‍্যাংকিন স্ট্রিটে তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ইয়াবা পাচারের চেষ্টার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তৌসিফের বাসার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে কুশ চাষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ল্যাবের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। ল্যাব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আনা কুশের বীজ, চাষ করা গাছ, সদ্য সংগ্রহ করা কুশ এবং চাষের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সিসা সেবনের সরঞ্জাম ও বিদেশি মদও পাওয়া যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাসার ছাদে টিন ও ফয়েল পেপার দিয়ে তৈরি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষে একাধিক টবে কুশ চাষ করা হতো। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থানকালে তৌসিফ কুশ চাষের কৌশল শেখেন। পরে দেশে ফিরে নিজের বাসায় বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করেন। বিদেশে অবস্থান করেও প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেন তিনি। এ কাজে তাঁর এক বান্ধবী সহযোগিতা করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ডিএনসির তথ্যমতে, গত জানুয়ারিতে ওই বান্ধবীর মাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসে ৩২টি ইয়াবা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনসির অভিযানে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই বান্ধবী ও তৌসিফের বাসার তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় তৌসিফকে পলাতক আসামি করা হয়েছিল।

দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল ডিএনসি। গ্রেপ্তারের পর তৌসিফের ডোপ টেস্টে মেথামফিটামিন ও ক্যানাবিনয়েডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে মেথামফিটামিনযুক্ত ১০টি ইয়াবা, ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৌসিফ ঢাকার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ইয়াবা ও কুশ সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি। তাঁর মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উদ্ধার করা ইয়াবা ও গাঁজা নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে তৌসিফের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ওয়ারী থানায় মামলা হয়েছে। পাশাপাশি কুশ চাষের ল্যাবসংক্রান্ত আগের মামলাতেও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।