দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে বড় পরিকল্পনা, বদলে যেতে পারে দেশের যোগাযোগ ও পানিব্যবস্থা

১১ মিনিটে পড়ুন৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতুর মাধ্যমে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমানো, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমীক্ষা শেষ হলে সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও নির্মাণব্যয় চূড়ান্ত করা হবে।

তবে তিনটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যায় এক নয়। দুটি সেতু এখনো সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে থাকলেও পদ্মা ব্যারাজের প্রথম পর্যায় ইতিমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু: ওয়াই-আকৃতির সংযোগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নতুন পথ

বর্তমানে পদ্মা সেতু মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরাকে সংযুক্ত করে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করেছে। তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আরও বিস্তৃত এলাকার সঙ্গে রাজধানী, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোর যোগাযোগ উন্নত করতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যানেও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া বা গোয়ালন্দ এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সুপারিশ রয়েছে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফেরিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে সেতু নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের বিকল্প পথ তৈরি হবে।

প্রকল্পটির ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সেতুর সঙ্গে একাধিক দিকের সড়ক যোগাযোগ যুক্ত করার ধারণা রয়েছে। তবে সংযোগপথের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও নকশা এখনো চূড়ান্ত নয়।

সেতুটি নির্মিত হলে মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। এতে পণ্য পরিবহনে সময় ও দূরত্ব কমানো এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এটি সেতু নির্মাণের বাজেট নয়; সমীক্ষা পরিচালনার জন্য বরাদ্দ।

দ্বিতীয় যমুনা সেতু: উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে বিকল্প করিডোর

যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বর্তমান সেতুটি দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। কিন্তু যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় সেতুটির ওপর চাপও বেড়েছে।

সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান যমুনা সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২২ থেকে ২৩ হাজার যানবাহন চলাচল করে। মূল সেতুটি চার লেনের হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। দুই পাশে সার্ভিস সড়ক যুক্ত করে মোট ছয় লেনে উন্নীত করার কাজও চলমান রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে দুটি পথ বিশেষভাবে বিবেচনায় রয়েছে।

প্রথমটি বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকা। দ্বিতীয়টি গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত।

এ ছাড়া সমীক্ষায় অন্য কোনো উপযুক্ত করিডোর পাওয়া গেলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় যমুনা সেতুর প্রধান লক্ষ্য শুধু বর্তমান সেতুর যানজট কমানো নয়; উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য। বিশেষ করে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও আশপাশের জেলার কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য এবং যাত্রী পরিবহনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমান সেতুতে কোনো কারণে যান চলাচল ব্যাহত হলে বিকল্প সেতু থাকায় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সচল রাখাও সহজ হবে।

দুই সেতুর সমীক্ষা শেষ হবে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে

দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুর নির্মাণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

এ সমীক্ষায় নেপাল, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সমীক্ষার জন্য ১২ মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমীক্ষায় সেতুর সম্ভাব্য অবস্থান ও সংযোগপথ ছাড়াও কারিগরি, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, সামাজিক ও আর্থিক বিষয় মূল্যায়ন করা হবে। কোন স্থানে সেতু নির্মাণ করলে ব্যয় তুলনামূলক কম হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগসুবিধা পাওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির চূড়ান্ত অবস্থান, নকশা ও ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। ফলে এখনো নির্মাণকাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময় বা মোট প্রকল্পব্যয় ঘোষণা করা হয়নি।

পদ্মা ব্যারাজ: ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প

তিনটি উদ্যোগের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি সবচেয়ে বড় পানিসম্পদ অবকাঠামো প্রকল্প। এটি নতুন কোনো ধারণা নয়; ষাটের দশক থেকেই বাংলাদেশে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে।

১৯৬১ সালে এ বিষয়ে প্রথম সমীক্ষা শুরু হয়। ২০০২ সালে পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা রাজবাড়ীর পাংশা ও কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ি এলাকাকে সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে চিহ্নিত করে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত সমীক্ষা ও প্রকৌশল নকশা তৈরি করা হয়।

অবশেষে ২০২৬ সালের ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজের প্রথম পর্যায় অনুমোদন পায়। এ পর্যায়ের অনুমোদিত ব্যয় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। প্রথম পর্যায়ের বাইরে পরবর্তী পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকল্পের প্রধান অবকাঠামো নির্মাণের জন্য রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলাকে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যারাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌযান চলাচলের জন্য নেভিগেশন লক এবং সংযোগ বাঁধ।

এটির মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি, মৎস্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কী পরিবর্তন আসতে পারে?

পদ্মা ব্যারাজের মূল উদ্দেশ্য বর্ষা মৌসুমের পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন নদী ও সেচব্যবস্থায় সরবরাহ করা। বিশেষ করে জানুয়ারি থেকে মে মাসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ইছামতী-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীব্যবস্থায় পানির প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন উপকৃত হতে পারে।

এ ছাড়া প্রকল্পে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যারাজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ১৯ জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপকৃত হতে পারেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্কলনে বছরে প্রায় ৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এগুলো প্রকল্পের সম্ভাব্য সুবিধা ও প্রাক্কলিত হিসাব; বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে পানি সংরক্ষণ, বিতরণ, পরিচালনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকারিতার ওপর।

ফারাক্কা ব্যারাজ, পানিবণ্টন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সংকট

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার পেছনে একটি বড় কারণ হলো শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা-পদ্মা নদীব্যবস্থায় পানিপ্রবাহের ঘাটতি।

ভারতে ফারাক্কা ব্যারাজ চালুর পর বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মার শুষ্ক মৌসুমের পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। এর প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে পানির প্রবাহ কমে, লবণাক্ততা বাড়ে এবং কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন ও সুন্দরবনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ পানিবণ্টন আলোচনার বিষয়টিও পদ্মা ব্যারাজের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে ব্যারাজ নিজে থেকে নতুন পানি সৃষ্টি করতে পারে না। উজান থেকে কী পরিমাণ পানি আসছে, বর্ষায় কতটা সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে কীভাবে তা বণ্টন করা হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর প্রকল্পের কার্যকারিতা নির্ভর করবে।

পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়েও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সম্ভাব্য সুবিধার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ওপর প্রভাব নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

১৫ অক্টোবর ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী Cambridge Prisms: Water-এ প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্যারাজ নির্মাণের ফলে পদ্মা নদীর পলি পরিবহন, শাখা নদীগুলোর সংযোগ, নদীর গতিপথ, ভাঙন এবং পলি জমার ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে।

বিশ্লেষণটিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার নদীগুলো অত্যন্ত গতিশীল। ফলে বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের আগে দীর্ঘমেয়াদি পানিপ্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা, নদীর গতিপথ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনও প্রকল্পটির সম্ভাব্য সুফল ও ঝুঁকি নিয়ে স্বচ্ছ গবেষণা এবং জনপরামর্শের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

অর্থাৎ, শুধু পানি সংরক্ষণ ও সেচ সুবিধা নয়, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা, মৎস্যসম্পদ এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ।

কবে শুরু হবে নির্মাণকাজ?

পদ্মা ব্যারাজের প্রথম পর্যায়ের অনুমোদিত বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজও শুরু হয়েছে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী দৃশ্যমান নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে পারেন।

অন্যদিকে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে এখনো সমীক্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও নির্মাণব্যয় চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেতু নির্মাণের বিপুল অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং ব্যারাজের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।