সিমেন্স-এনভিডিয়ার নতুন এআই প্রযুক্তি, কারখানার খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর লক্ষ্য
শিল্প কারখানার উৎপাদন পরিকল্পনা আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নতুন প্রযুক্তি সামনে এনেছে জার্মানির প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান সিমেন্স ও মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জার্মানির এরলাঙ্গেনে সিমেন্সের ইলেকট্রনিকস কারখানায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার তুলে ধরে প্রতিষ্ঠান দুটি।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বয়ংক্রিয়, নমনীয় ও দক্ষ করে তোলা। সিমেন্সের দাবি, এআই-নির্ভর উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যবস্থার মাধ্যমে কারখানার খরচ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি, ভার্চুয়াল সিমুলেশনের সাহায্যে উৎপাদন প্রস্তুতির প্রকৌশলগত কাজের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ভার্চুয়াল কারখানায় আগেই পরীক্ষা
নতুন ব্যবস্থাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘ডিজিটাল টুইন’ প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে বাস্তব কারখানা, যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি ভার্চুয়াল প্রতিরূপ তৈরি করা হয়। ফলে বাস্তবে উৎপাদন বন্ধ না করেই বিভিন্ন পরিবর্তন, উৎপাদন পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য সমস্যার প্রভাব ডিজিটাল পরিবেশে পরীক্ষা করা যায়।
সিমেন্সের তথ্য অনুযায়ী, এআই দিয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত ভার্চুয়াল ছবি ব্যবহার করে সার্কিট বোর্ডের মান যাচাইয়ের ব্যবস্থাও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। এতে বাস্তব নমুনা তৈরির জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমে এবং উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি দ্রুত করা যায়। নির্দিষ্ট এই প্রক্রিয়ায় প্রকৌশলগত কাজের সময় সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ কমতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
উৎপাদন পরিকল্পনায় এআইয়ের ভূমিকা
নতুন ব্যবস্থায় এআই এজেন্ট বিভিন্ন অর্ডার, কাঁচামালের প্রাপ্যতা, সরবরাহের সময়সীমা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে একাধিক উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে। এরপর ডিজিটাল টুইনের মাধ্যমে পরিকল্পনাগুলো পরীক্ষা করে সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।
এর ফলে কাঁচামালের ঘাটতি, নতুন অর্ডার কিংবা সরবরাহের সময় পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতিতে কারখানাগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
শিল্প খাতে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?
সিমেন্স ও এনভিডিয়ার অংশীদারত্বের লক্ষ্য শুধু একটি কারখানায় এআই ব্যবহার করা নয়; বরং ভবিষ্যতে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা। সিমেন্সের এরলাঙ্গেন কারখানাকে এ উদ্যোগের একটি পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিমেন্সের লক্ষ্য এআইয়ের সহায়তায় কারখানার স্বয়ংক্রিয়তার হার বর্তমান আনুমানিক ৩০–৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০–৮০ শতাংশে নেওয়া। প্রতিষ্ঠানটির মতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে জার্মানির মতো উচ্চ শ্রমব্যয়ের দেশেও শিল্প উৎপাদনের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখা সহজ হতে পারে।
তবে ২০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ সাশ্রয় বা স্বয়ংক্রিয়তার হার বৃদ্ধির লক্ষ্য সব কারখানায় একই ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রযুক্তি স্থাপনের ব্যয়, বিদ্যমান যন্ত্রপাতির সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং বাস্তব উৎপাদন পরিস্থিতির ওপর এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে।
