ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ, নিরাপত্তায় হাজারো পুলিশ
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাকর্মীরা। রোববার (১ নভেম্বর) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে কয়েক হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমবেত হন। এর আগে মধ্য দিল্লি থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিরোধী জোট। সমাবেশে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন। তাঁরা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমাবেশস্থল ও মিছিলের পথে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। নজরদারির জন্য স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি ড্রোন ও পুলিশের শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরার মাধ্যমেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।
গত বছর থেকে ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত ১৩ কোটির বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, মৃত, স্থানান্তরিত ও খুঁজে পাওয়া যায়নি—এমন ব্যক্তিদের পাশাপাশি অযোগ্য ও একাধিকবার নিবন্ধিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এ সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, ভুলভাবে কোনো ভোটারের নাম বাদ পড়লে তিনি পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যথাযথ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, গত মাস থেকেই ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দল, শিক্ষার্থী সংগঠন ও তরুণ আন্দোলনকারীরা ধারাবাহিক বিক্ষোভ করছেন। এর আগে দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অভিযান ও ধরপাকড়ের ঘটনাও ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় রোববারের সমাবেশে আবারও নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের দাবি সামনে এসেছে।
