প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছিল মিতু, এক বছরের মাথায় মিলল ঝুলন্ত মরদেহ

২ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

আর মাত্র কয়েক মাস বাকি ছিল জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা—এসএসসি দেওয়ার। কিন্তু তা আর দেওয়া হলো না মুসরিকা আক্তার মিতুর। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় স্কুলের এক সহপাঠীর প্রেমে পড়ে ঘর ছেড়েছিল সে। পরবর্তীতে দুই পরিবার তাঁদের এই বিয়ে মেনেও নিয়েছিল।

তবে বিয়ের এক বছর ঘুরতে না ঘুরতেই স্বামীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির জেরে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এই কিশোরী বধূ। শুক্রবার ভোরে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের চৌতাপাড়া গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা।

নিহত মুসরিকা মামুদপুর গ্রামের সাঞ্জাপাড়ার মাসুদ রানার মেয়ে। মিতু ও তার স্বামী সোয়ায়েব ইসলাম শুভ দুজনেই মামুদপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। সেখানে পড়ালেখার সুবাদেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তারা পালিয়ে বিয়ে করে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক তিনটার দিকে স্বামী সোয়ায়েবের সাথে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে সেচের কাজ দেখতে গিয়েছিল মিতু। সেখানেই কোনো এক বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সেখান থেকে একাই বাড়িতে ফিরে এসে নিজের ঘরের দরজা ভেজায় মিতু।

ওই ঘরেই ঘুমিয়ে ছিল তার ছোট বোন। কিছু সময় পর বড় বোনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিত্কার করে ওঠে সে। স্বজনরা দ্রুত এসে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে মিতুর প্রাণবায়ু শেষ হয়ে যায়। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ক্ষেতলাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল শেষ করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল করিম জানান, ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পরই কিশোরীর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে।

Bhinno Britto