ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সতর্কতা তুরস্কের

৫ মিনিটে পড়ুন২ বার পড়া হয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালাতে পারে। অন্যদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। চলমান যুদ্ধের অবসানে যখন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, তখন ট্রাম্পের নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও সীমিত পরিসরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করতে পারে। বিকল্প হিসেবে ইরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি।

তবে সম্ভাব্য অভিযানের সময়, লক্ষ্যবস্তু কিংবা সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্যে নতুন হামলার সম্ভাবনা সামনে এলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসেনি।

এর আগে শুক্রবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে দ্রুত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে। তবে সংঘাত দ্রুত শেষ করা হবে, নাকি ধীরে ধীরে পরিস্থিতির অবসান ঘটতে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলা চালানো হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তাঁর সর্বশেষ বক্তব্যে নির্বাচনের আগে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

‘নতুন হামলায় সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়বে’

ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। শুক্রবার ইস্তাম্বুলে আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ইরানে নতুন হামলা হলে অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত আবারও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফিদান বলেন, ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই সমস্যার সমাধান নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত বন্ধ করতে সংলাপ ও কূটনীতির পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

ইরান যুদ্ধ, সৌদি আরবে হুতি গোষ্ঠীর হামলা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এতে তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তান, সৌদি আরব, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেয়। ইউরোপীয় দেশগুলোও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও কাটেনি উত্তেজনা

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হয়। পাল্টা হামলায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়। কয়েক মাসের লড়াইয়ের পর যুদ্ধবিরতি ও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্ভাব্য হামলার সময় হিসেবে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরের সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং সংঘাত অন্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানির বাজারেও বাড়ছে উদ্বেগ

চলমান যুদ্ধের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারেও পড়ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক বিকল্প পুরোপুরি বাতিল না করার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো এবং নতুন সামরিক সংঘাত এড়ানোই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।