মাদ্রাসাশিক্ষকদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণার কারণ গুটিকয়েক ব্যক্তি: শিশির মনির

৪ মিনিটে পড়ুন৪ বার পড়া হয়েছে

গুটিকয়েক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সমাজে মাদ্রাসাশিক্ষকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এ পরিস্থিতি আত্মসমালোচনার মাধ্যমে পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাঁর এ বক্তব্য উঠে আসে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিশির মনির লেখেন, ধীরে ধীরে মাদ্রাসাশিক্ষকদের বিষয়ে সমাজে নেতিবাচক ধারণার জন্ম হচ্ছে। তবে সব শিক্ষককে এভাবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর ভাষ্য, গুটিকয়েক ব্যক্তির কারণে এ ধরনের নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টিকে আত্মসমালোচনার জায়গা থেকে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ

মাদ্রাসাশিক্ষকদের বিষয়ে তাঁর মন্তব্যের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ঘিরে ওঠা অভিযোগ জনপরিসরে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ ধরনের ঘটনায় শুধু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা হোক কিংবা সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—অনিয়মের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

শিশির মনিরের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, কয়েকজনের কর্মকাণ্ডের কারণে একটি বৃহত্তর শিক্ষকসমাজ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলে তা আত্মসমালোচনার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের ক্ষেত্রে দায়ীদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

বিডিআর হত্যা মামলার দ্রুত শুনানি চাইলেন

নিজের ফেসবুক পোস্টে বিডিআর হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিশির মনির। তিনি লিখেছেন, এ মামলায় ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১৫১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। মামলাটি রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলে অন্যান্য মামলার সঙ্গে দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়নি কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া উচিত কি না, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও পাচার হওয়া অর্থ নিয়ে বক্তব্য

স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিশির মনির। ইউনিয়ন পরিষদসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এই আইনজীবী। তাঁর বক্তব্যে শ্বেতপত্রের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এ অর্থের বিষয়ে আগের অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নিয়েছিল বলেও তিনি লেখেন।

পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে বর্তমান সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিশির মনিরের বক্তব্যে শিক্ষকসমাজের ভাবমূর্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি, আলোচিত হত্যা মামলার বিচারিক অগ্রগতি, প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের মতো একাধিক বিষয় উঠে এসেছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।