গাজামুখী ত্রাণবহরে আটক ব্যক্তিদের নির্যাতনের অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ,তদন্তের নির্দেশ তুরস্কের আদালতের

৫ মিনিটে পড়ুন১ বার পড়া হয়েছে

গাজামুখী ত্রাণবহরের অংশগ্রহণকারীদের ইসরায়েলে আটক অবস্থায় দুর্ব্যবহার করার অভিযোগে তুরস্কের নাগরিকদের শনাক্ত করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইস্তাম্বুলের একটি আদালত। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ৩৫ আসামির বিরুদ্ধে আগে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশের অনুরোধ বহাল রাখার আদেশ দিয়েছেন বিচারকেরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ইস্তাম্বুলের ১১তম হাই ক্রিমিনাল কোর্টে মামলাটির প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অভিযোগকারীদের বক্তব্য শোনার পর আদালত ত্রাণবহরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে আটক অবস্থায় দুর্ব্যবহারে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা তুর্কি নাগরিকদের পরিচয় শনাক্ত করার নির্দেশ দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরদের কাছেও বিষয়টি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলাটি গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া একটি ত্রাণবহরকে ইসরায়েলি বাহিনীর বাধা দেওয়া এবং বহরের অংশগ্রহণকারীদের আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে।

আটক অবস্থায় দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

শুনানিতে একজন অভিযোগকারী জানান, তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্য চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দিতে চিকিৎসক হিসেবে ত্রাণবহরে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েলি সেনারা তাঁদের নৌযান থেকে চিকিৎসাসামগ্রীর পাঁচ থেকে ছয়টি বাক্স নিয়ে যান। পরে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

ওই চিকিৎসক আদালতে জানান, তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ চালিয়ে যেতে চান।

আরেক নারী অভিযোগকারী বলেন, আটক অবস্থায় তাঁকে দুবার পোশাক খুলে তল্লাশি করা হয়েছিল। মাথার স্কার্ফ খুলতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পরে তাঁকে দেওয়া পোশাক পরা অবস্থায় ছবি ধারণ করে তাঁকে উপহাস করা হয়েছিল।

ওই নারী আরও বলেন, আটক অবস্থায় তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর কোনোটি তিনি ফেরত পাননি। তাঁর অভিযোগ, এ ঘটনায় তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে।

শুনানিতে বক্তব্য দেন তুরস্কের একজন আইনপ্রণেতাও। তিনি জানান, তাঁকে এবং প্রায় ৮০ জন ত্রাণবহর অংশগ্রহণকারীকে আটক করার পর দুর্বল বায়ু চলাচলব্যবস্থার একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের ঘুমাতে দেওয়া হয়নি এবং মৌখিক ও মানসিক দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।

ওই আইনপ্রণেতার দাবি, তাঁরা কোরআন পড়ার সময় একজন ইসরায়েলি সেনা ইসলামকে অবমাননা করেন। পরদিন সেখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তারাও তুরস্ক ও আটক ব্যক্তিদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এসব বক্তব্য মামলার অভিযোগকারীদের আদালতে দেওয়া সাক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়নি।

নেতানিয়াহুসহ ৩৫ আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা বহাল

আদালত নেতানিয়াহুসহ মামলার ৩৫ আসামির বিরুদ্ধে আগে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির যে অনুরোধ করা হয়েছে, সেটিও বহাল রাখা হয়েছে।

রেড নোটিশের অনুরোধ বহাল থাকার অর্থ এই নয় যে ইন্টারপোল ইতিমধ্যে সবার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে। আদালত এ-সংক্রান্ত অনুরোধ ও আগের পরোয়ানা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মামলায় অংশ নেওয়ার আবেদন করেছে ইস্তাম্বুলের দ্বিতীয় নম্বর বার অ্যাসোসিয়েশন, মাজলুমদার, আন্তর্জাতিক জুরিস্ট ইউনিয়ন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব লইয়ার্স অব দ্য আর্থসহ কয়েকটি আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠন। আদালত এসব সংগঠনের আবেদন গ্রহণ করেছেন।

গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগে পৃথক তদন্ত

শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, বিদ্যমান অভিযোগপত্রে মূলত গাজামুখী ত্রাণবহরকে বাধা দেওয়া এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু গাজার বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কথিত অপরাধের অভিযোগগুলো তুলনামূলকভাবে সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ কারণে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে কথিত অপরাধগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করে এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ যুক্ত করে পৃথক অভিযোগপত্র দাখিলের সম্ভাবনা বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ প্রক্রিয়ায় আইনি সংগঠনগুলোর জমা দেওয়া প্রমাণও পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।

আদালত তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নথি সংগ্রহের অনুরোধ জানাতে বলেছেন। গাজায় গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনও সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার ৩৫ আসামির তুরস্কে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারকেরা।

প্রথম শুনানি শেষে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন ২০২৭ সালের ৩০ মার্চ।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।