ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাতে ভারতের উপকূল, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে

৪ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে ঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশা রাজ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র প্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। স্থলভাগে আঘাত হানার সময় ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দেয়। নিচু উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানি ঢুকে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে লাখো মানুষ

ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশার প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নেয়। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় ও নিচু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দুই রাজ্যে সম্মিলিতভাবে এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

অন্ধ্র প্রদেশে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয় এবং জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেয়। জেলেদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে অন্ধ্র প্রদেশের বিভিন্ন উপকূলীয় জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে কাকিনাড়া ও ইয়ানাম এলাকার আশপাশে জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থলভাগে প্রবেশের সময় কিছু নিচু এলাকায় জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে উপকূলীয় বসতি ও নদীর মোহনার আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

প্রতিবেশী ওডিশা রাজ্যেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি জোরদার করে।

বাংলাদেশেও সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ভারতের উপকূলে আঘাত হানলেও বঙ্গোপসাগরে উত্তাল সমুদ্র পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী বিশেষ বুলেটিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় সতর্কসংকেত নম্বর ৩ দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছিল।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে এবং সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়। সমুদ্রের পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের পর এর গতিপথ, শক্তি এবং বৃষ্টিপাতের প্রভাব পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা ও জরুরি প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।