ফ্রান্সে ফের বিশ্ববিদ্যালয়-উচ্চবিদ্যালয় অবরোধের ডাক শিক্ষার্থীদের

৫ মিনিটে পড়ুন৩ বার পড়া হয়েছে

ফ্রান্সে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয় অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধ এবং ৫ নভেম্বর শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকা বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। শিক্ষা খাতে সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং তরুণদের দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ার অভিযোগে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভির বরাত দিয়ে আমার দেশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী সংগঠন ইউনিয়ন এতুদিয়াঁতের মুখপাত্র সাবরিনা খারবাখ শিক্ষার্থীদের নতুন অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে। বৃহস্পতিবারও অবরোধ করা হবে। এরপর ৫ নভেম্বর শ্রমিকদের ডাকা বিক্ষোভে অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে আগের তুলনায় বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

ফ্রান্সের জাতীয় শিক্ষার্থী ইউনিয়ন (ইউনেফ)-এর মহাসচিব মানোঁ মোরে বলেন, তরুণদের দাবির বিষয়ে সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বা জবাব দেয়নি।

শিক্ষা খাতের সংকট থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয় মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত দুরবস্থা, শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ থেকে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থা ‘পারকুরসুপ’ (Parcoursup) নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে।

শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক থাকলেও পরে এ আন্দোলনে শ্রমিক সংগঠন, জলবায়ু আন্দোলনকারী ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হয়েছেন। ফলে এটি এখন শিক্ষা খাতের দাবির পাশাপাশি বিস্তৃত সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

সরকারের পদক্ষেপেও থামেনি আন্দোলন

আন্দোলনের চাপের মুখে গত ২৬ অক্টোবর শিক্ষা খাতে বেশ কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দেয় ফরাসি সরকার। এর মধ্যে ২০২৮ সালে পারকুরসুপ ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন ভর্তি পদ্ধতি চালু, ২০২৭ সালের ভর্তি কার্যক্রমে কিছু সংস্কার এবং উচ্চশিক্ষায় আরও ১৫ হাজার আসন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষায় আগে পরিকল্পিত ৮৩৬টি চাকরি কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ৫০০টি নতুন শিক্ষক পদ সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্কুল ভবন সংস্কারে ৪০০ কোটি ইউরো ঋণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নে ১০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। ২০২৭ সাল থেকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের অনুদান বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা এসব উদ্যোগের কিছু অংশকে স্বাগত জানালেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংকট এবং নতুন ভর্তি ব্যবস্থার কাঠামো নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়ে গেছে। ফলে সরকারের ঘোষণার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনগুলো।

দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার, মোতায়েন ৭০ হাজার পুলিশ

শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে প্যারিসের রিং রোড অবরোধ এবং সরকারি ভবনে হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

এর আগে ১৭ ও ২৪ অক্টোবরের বিক্ষোভে কিছু স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। যদিও অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল, সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ কারণে শনিবারের কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।

প্যারিসে বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত আগের একটি রায় বাতিল করায় বাগনোলে থেকে শারঁতঁ পর্যন্ত নির্ধারিত পথে মিছিলের অনুমতি বহাল থাকে।

শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর নতুন কর্মসূচির পাশাপাশি ৫ নভেম্বর শ্রমিক সংগঠনগুলোর দেশব্যাপী ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।