ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

৩ মিনিটে পড়ুন২ বার পড়া হয়েছে

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে সীমিত পরিসরে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২ নভেম্বর) চালানো এই হামলার বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন ইরানি সামরিক সক্ষমতা সীমিত করাই ছিল হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁদের কেউ কেউ অভিযানটিকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে এই হামলা চালানো হয়। তবে অভিযানটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাত আবার শুরু করার ইঙ্গিত নয় বলেও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপ ও উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কেশম দ্বীপে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ দেখেছেন বলেও জানিয়েছেন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, এসব অভিযান প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত এড়াতেই ওয়াশিংটন এ বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে।

কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই হামলা

এদিকে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ‘না’ বলেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পর্কে তেহরান অবগত।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক হামলা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক তৎপরতা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে এই পরিস্থিতি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এখন পর্যন্ত কেশম দ্বীপে হামলায় হতাহতের সংখ্যা কিংবা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

Bhinno Britto

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য সম্পাদকীয় অনুমোদনের পর প্রকাশিত হয়।